জন্ডিসের চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা
বাংলাদেশ, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ১ দিন আগে
  বীর খেতাবপ্রাপ্তদের সাথে নিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি  বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ-কার্গোর সংঘর্ষ  ফুলবাড়ীতে হিন্দু বাড়ীতে হামলা; মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, ছয়জন আটক  কুড়িগ্রামে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত  বিপিএলে বিসিবি’র খাবার খেয়ে অসুস্থ ১৭ সাংবাদিক  আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ‘অস্ত্র কারখানা’  নবজাতককে দেখতে গিয়ে বাবা ও নানার মৃত্যু  দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক ৩ দিনের রিমান্ডে  কলাপাড়ায় বাস কাউন্টার দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২  তিতাসে বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা  ইসলাম ধর্মে মুগ্ধ হয়ে মুসলিম হলেন রুপম দাস  জাপা’র এমপিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আ. লীগের ২২ নেতাকর্মীর নামে মামলা  ভোলায় ধানক্ষেতে প্রতিবন্ধীর গলাকাটা লাশ  বরিশালে শিক্ষক ও বখাটের ধর্ষণে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী পুত্র সন্তানের মা  এডিসি জাহাঙ্গীরের উদ্যোগে বিদ্যুৎ পেল ১৫টি হিন্দু পরিবার  ভূরুঙ্গামারীতে ট্রাক্টরচাপায় একজন নিহত  পাল্টাপাল্টি ছুরিকাঘাতে জামাই ও শাশুড়ি নিহত  আসামি আজিজ বিদেশে, নিরপরাধ আজিজ কারাগারে!  হানিমুনে ‘নার্ভাস’ মিথিলা  উত্তরপূর্ব ভারতে বিক্ষোভ চলছেই, আসামে নিহত ৫

জন্ডিসের চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা

Avatar

একুশের চোখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিতঃ মে ১৯, ২০১৯ ৯:৪২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক// প্রাচীন, আধুনিক যুগ পেরিয়ে বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগ, ডিজিটাল এই যুগে মানুষ সতর্ক আর সচেতন হলেও এখনো গ্রামে এবং শহরে রয়েছে কিছু অন্ধবিশ্বাসী লোক। আর সেই লোকেরা নিয়মিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে যান বিভিন্ন কবিরাজের কাছে। আর সেখানে গিয়ে কবিরাজ-ওঝা তাদের নয় ছয় বুঝিয়ে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা।

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ১ নং ওয়ার্ডের বালিয়াকান্দি গ্রাম যেই গ্রামের একটি মহল্লাকে মানুষ জন্ডিস নগরী হিসেবে চিনে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কবিরাজ ইয়ানুর বেগম একজন ২২ বছর বয়সী মেয়েকে জন্ডিস নামাচ্ছেন মাথা থেকে। সামনে একটি বল তার মধ্যে চূর্ণ অল্প কিছু পানি দিয়ে কতক্ষণ মাথায় থাপ্পড় দিয়ে চূর্ণের পানির সাথে একটু পানি ও আমের গুড়া দিয়ে বলে দেখো কি বের হয়েছে। এবার একটু সূতরি দিয়ে বললো এগুলো চোখে ও নাভিতে ধরো, তার পাশেই আছে ৮/১০ টি বালতি, দুইটি কলসি ও এক বালতি চূর্ণের পানি। ঐ রোগীর পরের সিরিয়ালে বসানো হয় ভোলার এক সাংবাদিক-কে। তার জন্ডিস নামাতে, তবে চূর্ণ লাগাবো যাবে না বললেই তিনি জন্ডিস নামাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এর পরেই বের হয়ে আছে তাদের কবিরাজির মূল রহস্য, জানতে চাওয়া হয় কি মন্তর দিয়ে জন্ডিস নামাচ্ছেন। সামছুনাহার, নুরজাহান, মোফাজ্জল বললো বিভিন্ন আউলিয়ার নামে কসম দিয়ে জন্ডিস নামায়। তবে এখন তো রোজা কসম দেন কি ভাবে ? এর পরে বলেন আমরা বাপ, দাদার উত্তরসূরী হিসেবে এই কাজ করি দোয়া দরুদ দিয়ে। তবে কোন দোয়া পাঠ করেন কেউ বলে সুরা ইখলাস কেউ বললো আলহামদুলিল্লাহ দিয়েই জন্ডিস নামায়।

হাজেরা, নাজমা, মোস্তফা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ঘরে রোগী রেখেই পালিয়ে যান।
হাজেরা নামের আরেক কবিরাজ বলেন, আমি কোন দোয়া দরুদ জানি না। তবে স্বামী অসুস্থ্য তাই এই কাজ করি।

রেশমা নামের এক কবিরাজ বলেন, আমাদের ক্ষতি কইরেন না ভাই। আমরা ৬ বোন অভাবের কারনে এই কাজ করি। তবে কি মন্তর দিয়ে জন্ডিস নামাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে একই উত্তর দিলেন যে আমার বাবা এক কবিরাজের বন্ধু ছিলেন সেখান থেকে আমি একটু শিখতে পারছি।

অভিযোগ রয়েছে এই রেশমা জন্ডিসের রমরমা ব্যবসার কারনে তার শশুর বাড়ী বাপ্তায় থাকেন না, স্বামী বার বার চেষ্টার পরেও তার বাড়ীতে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে ঐ নগরীর পুরুষরা কোন কাজ করেন না, সবাই মহিলাদের সহযোগিতা করেন এবং একজন কবিরাজ বাসায় না থাকলে ছোট বড় সবাই কবিরাজ সেজে ভোলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোগীদের জন্ডিস নামানোর নামে প্রতারণা করেন।

তবে তাদের বড় টার্গেট হলো বিদেশি ও চাকুরীজীবীরা। কোন নতুন বিদেশী ও চাকুরীজীবি জন্ডিস নামাতে গেলে তাদের প্রথমে ১ ঘণ্টাব্যাপী পানি ও চূর্ণ দিয়ে নামাবেন। পরে ছোট ছোট বড়ি ও ছোট বোতলের কিছু বনাজী ঔষধ দিয়ে বলবেন ১৫০০/২০০০ টাকা দেন।

স্থানীয়রা জানান, এখানেও রয়েছে প্রতিযোগিতা। একজন রোগী আসলে যার যার বারান্দায় বসে ইশারায় সবাই ডাক দিতে থাকেন এবং এই বাড়ীর কোন মেয়ে অন্য জায়গায় বিয়ে দিলে সেখানে গিয়েও শুরু করেন এই প্রতারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই নগরী মেয়ে রহিমাকে বিবাহ দেন পূর্ব ইলিশার ৯ নং ওয়ার্ডের গোডাউন সংলগ্ন। সেখানেও রহিমা ও তার ফুফু নুরবানু গড়ে তুলেছেন আরেক জন্ডিস নগরী। ঘটনার সত্যতা জানার জন্য ইলিশায় ৯ নং ওয়ার্ডে গিয়ে মজিবল কবিরাজ বাড়ীতে গিয়ে দেখেন প্রতারণার আরেক ফাঁদ সেখানে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেই কবিরাজরা নিয়ে আছেন স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিদ্বয়কে। তারা এসে জানান ওরা গরীব, পেটের দায়ে এগুলো করছেন। তবে পেটের দায়ে রোগীর সাথে প্রতারণা এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেনি কেউ। এই প্রতারণা যেন ভবিষ্যতে আর না হয় এই জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী রোগী ও এলাকাবাসী।

আর্কাইভ

মে ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল   জুন »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
আর্কাইভ
প্রধান উপদেষ্টা: এম লোকমান হোসাঈন
উপদেষ্টামন্ডলী: মোঃ শাহাব উদ্দিন বাচ্চু, হাবিবা আক্তার মনি
আইন উপদেষ্টা:
প্রকাশক ও সম্পাদক: কাওসার মাহমুদ (মুন্না)
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: খাঁন আব্বাস
নির্বাহী সম্পাদক: রাশেদ খান (সুমন)
যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: সোহানুর রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: কবির হোসেন
যুগ্ন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক:
বার্তা সম্পাদক: মেহেদী হাসান
যুগ্ম বার্তা সম্পাদক:
স্থায়ী কার্যালয়: রহমতপুর বাজার, বাবুগঞ্জ বরিশাল।
অস্থায়ী কার্যালয়: ভূঁইয়া ভবন, ফকির বাড়ি রোড ,বরিশাল। মুঠোফোন: 01812159112, [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য
Developed by: NEXTZEN LIMITED